যান্ত্রিক ত্রুটি ও মেরামত

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে বড় লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও মেরামতের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বন্ধ হয়ে গেছে।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও মেরামতের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা বলছেন, ২ নম্বর ইউনিটটিতে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে সংস্কারকাজ চলায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ১৬ অক্টোবর থেকে বন্ধ তৃতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। টারবাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ত্রুটি মেরামত করে উৎপাদনে ফিরতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট ১২৫ করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। ১৬ অক্টোবর তৃতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পাঁচদিন পর রোববার ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। আর ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটিতে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে সংস্কারকাজ চলায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষি ও শিল্পে বিদ্যুতের চরম সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করার জন্য অপারেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত চীনা কোম্পানির সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ১ নম্বর ইউনিটটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু করার প্রস্তুতি নেয়া হলেও এখনো বড় ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। ইউনিটটি সচল করার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও ত্রুটি সারিয়ে পুরোপুরি চালু করতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।’

ঠিক কী বা কোন ধরনের সমস্যার কারণে একে একে সব ক’টি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার জটিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এরপর রোববার ১ নম্বর ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যায়। ফলে ওই ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়।’

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুর অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি পড়ে যাবে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাচ্ছিলাম, কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এখন ঘাটতি পড়ে যাবে। এর ফলে রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হবে। জাতীয় গ্রিড থেকে রংপুর বিভাগের আট জেলার জন্য চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেতে হলে দেশের অন্য জেলা থেকে কাটছাঁট করে বিদ্যুৎ আনতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ব্যবস্থাপক ও বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সাহাগীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে কেন্দ্রটি। ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। সেটিও গতকাল থেকে বন্ধ করা হয়েছে।’

আরও